আজকাল ওয়েবডেস্ক: শীত মানেই উৎসব। আর শীত জোড়া এই উৎসবের মধ্যে শহর-জেলায় আয়োজিত হচ্ছে একের পর নাটকের উৎসব। তেমনই রীতি মেনে এবারও আয়োজিত হচ্ছে 'মাটি উৎসব'। বাকসাড়া মাটি নাট্যদলের আয়োজনে হাওড়ার বাকসাড়ার নতুন নবনারী কুঞ্জ মঞ্চে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত হতে চলেছে এই নাটকের উৎসব।
চার দিনে মোট ২৫টি নাট্যশিল্প পরিবেশিত হবে এই আয়োজনে। এই সমস্ত পরিবেশনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবেন ৩০০-এর বেশি শিল্পী। গান, ক্লাউনিং, পাপেট্রি, নাটক পাঠ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রিয় নাটকের আয়োজন থাকছে এবারের আয়োজনে। প্রতিদিন বিকেল চারটে থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান, শেষ নাটকটি শুরু হবে রাত আটটায়। ফলে বলা চলে, শীতের মরশুমে আয়োজনে কোনও খামতি থাকছে না বাকসাড়া মাটির। বলা চলে হাওড়া বাকসাড়া অঞ্চলে এমন বড় নাট্য উৎসব এর আগে কখনও হয়নি, তাই এককথায় আয়োজন ঐতিহাসিক।

নাটকের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, মাটি-র নিজস্ব প্রযোজনা 'ভানু পেল লটারি' যেমন থাকছে উৎসবে, তেমনই থাকছে অনীকের 'হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা', ঠাকুরনগর প্রতিধ্বনির 'ফেলে আসা মেগাহার্টজ', হাওড়া জোনাকির 'ভোমা', শৌভিক সাংস্কৃতিক চক্র-এর 'যত মত, তত পথ', আনন্দপুর গুজবের 'বগলাচরিতমানস'। প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সন্ধ্যা শুরু হবে গানে। তারপর প্রতিদিনই নাট্যসন্ধ্যার শুরুতে থাকছে গান।
আয়োজকদের তরফ থেকে রাজরাখাল জানালেন, '২০১৪ সালে আমাদের দল শুরু খাতায় কলমে। ২০১৫ সাল থেকেই আমি এই থিয়েটার ফেস্টিভ্যালটা করে আসছি। কোভিডের সময় কয়েকদিন একটু বন্ধ ছিল। বাকি প্রতিবছরই করে আসছি। প্রথম প্রথম অঙ্গনের নাটক দিয়ে হত। ধীরে ধীরে ফেস্টিভ্যালটা বড় হয়েছে, এটা আমার সন্তানের মতো। আমার একটাই চাওয়া-পাওয়া একটাই, আমার পাশের বাড়ির মানুষ তো থিয়েটার দেখতে যেতে পারে না। আমার বাড়ির কাছাকাছি কোনও থিয়েটার হল নেই। তাঁদেরকে বছরে একবার থিয়েটারটা দেখাই, এটাই আমার কাছে বড় বিষয়। এখনও প্রতিবছর এলাকার সাধারণ মানুষ জিজ্ঞাসা করেন, এবার উৎসবে কোন নাটক আসছে। ফলে মানুষের মধ্যে একটা প্রবল আগ্রহ আছে।'
রাজরাখাল আরও জানালেন, এই উৎসবের পরিকল্পনা শুরু হয় আগের বছরের উৎসব শেষ হওয়ার পর থেকেই। অর্থাৎ প্রায় একবছরের প্রস্তুতি থাকে এই থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের জন্য। আর এই উৎসব তো হলে হয় না, হয় মঞ্চ বেঁধে। তিনি বললেন, 'এবার আমরা একটু অন্যরকম করে উৎসব করব, অনেকদিন আগে থেকেই ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম, এবার অন্যরকম করে সাজাতে হবে, আরও বেশি শিল্পীদের এই উদ্যোগে অংশ করে হবে।'
