বলিউডের গ্ল্যামার জগতে তারকাদের রূপবদল নতুন কিছু নয়। কিন্তু সম্প্রতি অভিনেত্রী রিমি সেনের যে ভোলবদল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, তা দেখে নেটজনতার চোখ কপালে। 'ধুম', 'গোলমাল' বা 'ফির হেরা ফেরি'-র সেই মিষ্টি হাসির মেয়েটি যেন রাতারাতি অন্য মানুষ হয়ে গিয়েছেন। আর এই নতুন লুক ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ট্রোলিং।
সম্প্রতি রিমি সেনের কিছু ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁর চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। গালের হাড় থেকে শুরু করে ঠোঁটের গড়ন—সবকিছুতেই যেন এক অদ্ভুত টানটান ভাব। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, অভিনেত্রী অতিরিক্ত সার্জারি বা ফিলার্স করিয়েছেন। কেউ কেউ তো সরাসরি মন্তব্য করেছেন, 'রিমিকে আর চেনা যাচ্ছে না, ও কি নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলল?'
সমালোচকরা এখানেই থেমে থাকেননি। একজন নেটিজেন তাঁকে বিদ্রূপ করে লেখেন, 'মুখে কি ১.৫ কেজি প্লাস্টিক ভরেছেন?' এই ধরণের আক্রমণাত্মক মন্তব্যে সাধারণত তারকারা চুপ থাকলেও, রিমি সেন মোটেও দমে যাওয়ার পাত্রী নন। তিনি এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, কোনও প্লাস্টিক সার্জারি নয়, বরং ভালো মেকআপ, স্কিন কেয়ার এবং সঠিক জীবনযাত্রার কারণেই তাঁর এই পরিবর্তন। তিনি মজার ছলে বলেন, "যদি লোকে মনে করে আমি সার্জারি করিয়েছি, তবে সেটা আমার ডাক্তারের ক্রেডিট হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সত্যিটা হল আমি কেবল নিজেকে গ্রুম করেছি।"
এক সময়ের বলিউডের পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী রিমি সেন। বছর ২৫ আগে নিজের কেরিয়ারের শুরুতেই ‘হাঙ্গামা’, ‘ধুম’, ‘গোলমাল’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘জনি গদ্দার’-এ র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করে দর্শকের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড়পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমতে থাকে। ধীরে ধীরে লাইমলাইট থেকে সরে যান অভিনেত্রী। আর এখন, দীর্ঘ বিরতির পর একেবারে ভিন্ন কারণে ফের শিরোনামে রিমি সেন। এই মুহূর্তে তিনি দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট দুনিয়ার পরিচিত নাম এক সময়ের বলিপাড়ার এই চর্চিত অভিনেত্রী।
বর্তমানে দুবাইয়ে একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন রিমি সেন। সম্প্রতি বিল্ডক্যাপস রিয়েল এস্টেট এলএলসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন, কীভাবে দুবাই তাঁকে আপন করে নিয়েছে এবং কীভাবে এই প্রতিযোগিতামূলক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
রিমির কথায়, “দুবাই ভীষণভাবে ওয়েলকামিং। এখানকার প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষই প্রবাসী, বাকিরা এমিরাতি। তবুও শহরটা সবাইকে সমানভাবে গ্রহণ করে। এখানে যেমন মসজিদ আছে, তেমনই মন্দিরও আছে। সবাইকে মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়। মূল লক্ষ্য একটাই, মানুষের জীবন কীভাবে আরও সহজ, স্বচ্ছন্দ আর আরামদায়ক করা যায়।”
এই প্রসঙ্গেই ভারতের সঙ্গে তুলনা টেনে অভিনেত্রীর মন্তব্য, “আমাদের দেশে প্রায় রাতারাতি নীতি বদলে যায়। তার ফলে মানুষের জীবন আরও জটিল হয়ে ওঠে। হাজার রকমের কর, অসংখ্য নিয়ম-কানুন এখন আর ব্যবসার পক্ষে খুব একটা সহায়ক পরিবেশ নেই।”
