রূপকথার মতোই ছিল তাঁদের প্রেম। যেন গল্পের পাতা থেকে বাস্তবে নেমে আসা এক আখ্যান। অথচ সেই সম্পর্কেই এবার শোনা যাচ্ছে ভাঙনের সুর। গত বছরের জানুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা তাহসান রহমান খান ও মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদ। প্রেমের অধ্যায়টি তাঁরা যতটা গোপনে রেখেছিলেন, একসঙ্গে নতুন জীবন শুরুর খবরটি ততটাই খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে। ছিমছাম ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে আনন্দের খবর জানিয়েছিলেন তাঁরা।
কিন্তু বিয়ের এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের জল্পনা শুরু হয়। আর সেই জল্পনায় অবশেষে শিলমোহর দেন তাহসান নিজেই। তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাস থেকেই তাঁরা আর একসঙ্গে থাকছেন না। তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে ভাঙার খবরে নেটদুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয় তারকার জীবনে এমন বড় ঝড়ের কথা শুনে হতবাক তাঁর অনুরাগীরাও। অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তাহসানের মানসিক অবস্থান নিয়ে। তবে এই কঠিন সময়েও তাঁকে ঘিরে থামেনি ট্রোল আর কটাক্ষ। সমবেদনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা।
বেশ কয়েক মাস আগেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তাহসান। ফলে এই মুহূর্তে তাঁকে নাগালে পাওয়ার উপায় নেই। তবে তারকা না থাকলেও থেমে নেই নেটদুনিয়ার সমালোচনা। এবার আক্রমণের মুখে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী রোজা। তিনি এখনও পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম থেকে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবিগুলি মুছে ফেলেননি। বরং তাঁর প্রোফাইল জুড়ে এখনও চোখে পড়ছে ভালবাসায় ভরা নানা মুহূর্তের পোস্ট। আর এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিচ্ছেদের খবরে যখন শিলমোহর পড়েছে, তখন এই ধরনের পোস্ট রাখা ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’। কেউ কেউ আবার এই আচরণকে বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করছেন।
রোজার প্রোফাইলের প্রথম ছবিটি তাঁর এবং তাহসানের বিয়ের। সেই ছবির কমেন্ট সেকশন ভরে গিয়েছে তিক্ত মন্তব্যে। জনৈক নেটিজেনের কটাক্ষ, ‘এক বছরের মধ্যেই সব শেষ’। আবার অন্যজনের টিপ্পনি, ‘অনলাইনে যা দেখি বেশিরভাগই আসলে লোকদেখানো।’ অনেকেই রোজাকে, তাহসানের সঙ্গে সব ছবি মুছে ফেলার উপদেশ দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার, সব কিছু ঠিক করার পরামর্শ দিতেও পিছপা হননি।
এখানেই শেষ নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাহসানের সঙ্গে একটি আদুরে ছবি পোস্ট করেছিলেন রোজা। সেখানে দেখা যায়, স্বামীর কোলে মাথা রেখে চোখ বুজে রয়েছেন তিনি। এবার সেই ছবি নিয়েও শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, জুলাইতেই তাঁরা আলাদা হলে সেপ্টেম্বরে এহেন পোস্ট কেন? তবে কি বিচ্ছেদের কথা মিথ্যা নাকি সবটাই অনুরাগীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা? আপাতত এমন নানা প্রশ্নের সম্মুখীন রোজা। তবে নীরবতাই আপাতত তাঁর জবাব। আর সেই নীরবতাকেই ঘিরে বাড়ছে জল্পনা।
অন্যদিকে, বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাহসান ও রাফিয়াত রাশিদ মিথিলাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। ২০১৭ সালে তাঁদের দাম্পত্যের ইতি ঘটলেও, তারপরেও সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ্যে আসেনি। বরং দুই প্রাক্তনই বহুবার প্রমাণ করেছেন, বিচ্ছেদের পরেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। এমনকি বিচ্ছেদের পরেও একসঙ্গে কাজ করতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের।
এদিকে শোনা যাচ্ছে, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়-এর সঙ্গে মিথিলার দাম্পত্য জীবনও নাকি খুব একটা মসৃণ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মেয়ে আয়রাকে নিয়ে বাংলাদেশে রয়েছেন গায়িকা-অভিনেত্রী। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আবার নিঃসঙ্গ তাহসানের কাছাকাছি আসবেন মিথিলা? পুরনো সম্পর্ক কি নতুন করে জোড়া লাগবে? এই সম্ভাবনাকেই ঘিরে এখন অনুরাগীমহলে তুমুল আলোচনা। যদিও এই সবই আপাতত জল্পনা মাত্র। বাস্তবে কী হতে চলেছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কারও তরফেই কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
