আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কিছু অংশে পরিবারে অন্তত একজন পুত্রসন্তান থাকা প্রায়শই সামাজিক প্রতিপত্তির সঙ্গে জড়িত। কন্যা সন্তান এখনও অনেকের কাছে আর্থিক বোঝা। হরিয়ানার জিন্দ জেলার একটি সাম্প্রতিক ঘটনা এই মানসিকতাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। ১৯ বছর ধরে বিবাহিত এক দম্পতির পুত্রসন্তানের জন্মের পরেই লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। পুত্রের জন্ম হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক নয়। বিতর্ক এই নিয়ে যে, নিজের ১০ মেয়ের নাম বলতে পারলেন না বাবা। পরিবারের সবার দায়িত্ব কীভাবে নেবেন ওই ব্যক্তি।
ব্যক্তির নাম সঞ্জয় কুমার। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বাবাটি জানান, তাঁর বড় মেয়ে শ্রিনা দ্বাদশ শ্রেণিতে এবং তার পরের মেয়ে অমৃতা একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। এরপর তিনি আরও কয়েকজনের নাম বলেন। কিন্তু তাঁর সব মেয়ের নাম মনে করতে পারেননি। এই মুহূর্তটি দর্শকদের হতবাক করে দেয় এবং দ্রুতই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় ওই ব্যক্তির ভিডিও।
গত ৪ জানুয়ারি জিন্দের উচানার ওজাস হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সঞ্জয়ের ৩৭ বছর বয়সী স্ত্রী। হাসপাতালের ডাক্তার জানিয়েছিলেন, প্রসবটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। প্রসূতিকে তিন ইউনিট রক্ত দিতে হয়েছিল। মা এবং নবজাতক সুস্থ আছে। মহিলাটিকে ৩ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরের দিন তিনি সন্তান প্রসব করেন। এর পরেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি প্রতিবেশী ফতেহাবাদ জেলার নিজের গ্রামে ফিরে যান।
২০০৭ সালে বিয়ে করেন সঞ্জয়। ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে এটি তাঁদের একাদশ সন্তান। ৩৮ বছর বয়সী দিনমজুর সঞ্জয় জানিয়েছেন, তিনি এবং মেয়েদের ইচ্ছে ছিল এক ছেলে সন্তানের। তিনি জানিয়েছেন যে, সীমিত আয় সত্ত্বেও তিনি তাঁর সব সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে সঞ্জয় বলেন, “আমরা একটি ছেলে চেয়েছিলাম, এবং আমাদের বড় মেয়েরাও ভাই চেয়েছিল। এটি আমার একাদশ সন্তান, এবং আমার ইতিমধ্যেই ১০টি মেয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সীমিত আয় দিয়ে আমি আমার মেয়েদের ভাল শিক্ষা দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। যা ঘটেছে তা ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং আমি এতে খুশি।”
সঞ্জয়ের সাক্ষাৎকারের ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী শিশুদের এবং মায়ের সুস্থতা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বাবা-মায়ের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার অনেকে তুলে ধরেছেন কীভাবে পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব বারবার সন্তান জন্মদানের শারীরিক ও মানসিক বোঝা নারীদের ওপর চাপিয়ে দেয়। যদিও পিতৃতান্ত্রিক সমাজের চাপের কথা অস্বীকার করে সঞ্জয় বলেন, আজকের মেয়েরা সব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সক্ষম।
হরিয়ানার লিঙ্গ অনুপাত সব সময় আলোচনার কেন্দ্রেই থাকে। ২০২২ সালে প্রতি ১,০০০ পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ছিল ৯২৩। যা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক কম ছিল।
