আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থান নিয়ে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুললেন AIMIM প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, এই দুই ইস্যুতে ভারতের নীতিতে স্পষ্ট দ্বিচারিতা রয়েছে। খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াইসি বলেন, “পহেলগাওঁ হামলার পরও আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়া কাপে ক্রিকেট খেলেছি। সেখানে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের হাতে কাশ্মীরে পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাহলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানোর যুক্তি কী?” তাঁর প্রশ্ন, যদি মুস্তাফিজুর রহমানকে দেশে ফেরত পাঠানো যায়, তাহলে কেন শেখ হাসিনাকেও ফেরত পাঠানো হচ্ছে না?
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বিসিসিআই (BCCI) আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) নির্দেশ দেয় বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিসিসিআই জানায়, আইপিএল ২০২৬ মরসুমের জন্য প্রয়োজনে কেকেআর বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে নিতে পারবে।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর-সহ একাধিক নেতা খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানোর বিরোধিতা করেছেন। সেই বিতর্কেই নতুন মাত্রা যোগ করে ওয়াইসির মন্তব্য।
AIMIM প্রধান আরও বলেন, “একজন বাংলাদেশি মহিলা ভারতে থাকছেন- তাঁকেও পাঠিয়ে দেওয়া হোক। তাঁকে এখানে আটকে রাখা হচ্ছে কেন? বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে চীন ও পাকিস্তান সক্রিয়। এই দিকটাও আমাদের দেখতে হবে।”
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে তাঁর বিচার হবে প্রহসনমূলক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ভরা। ভারত সরকারও বাংলাদেশের তথাকথিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল’-এর দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত যেমন ক্রীড়ামহলে আলোড়ন তুলেছে, তেমনই শেখ হাসিনার অবস্থান ঘিরে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতা আরও গভীর হচ্ছে। ওয়াইসির বক্তব্যে সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
