আজকাল ওয়েবডেস্ক: অশান্ত বাংলাদেশ, তার মধ্যেই ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। এবার ওই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন কংগ্রেস সাংসদ তথা সংসদের বিদেশ বিষয় কমিটির চেয়ারম্যান শশী থারুর। শনিবার এক্স-পোস্টে থারুর হিন্দু যুবক হত্যার নিন্দা করার জন্য বাংদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রসংশা করেছেন। তবে, হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের কাজ যাতে আর না হয় তার জন্য প্রতিবেশী দেশের সরকার কী পদক্ষেপ করছে তা জানতে চেয়েছেন থারুর।
এক্স-পোস্টে শশী থারুর বলেছেন, "সারা বাংলাদেশে যে গণবিক্ষোভ চলছে, তার মধ্যে হিন্দু যুবককে হত্যার বিষয়টি অসহনীয় মর্মান্তিক ঘটনা। অপরাধীদের হাতে এই নিরীহ হিন্দু লোকটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি, আমি বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা জানানোর প্রশংসা করি। কিন্তু তাদের কাছে অবশ্যই জানতে চাই যে, তারা হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে কী করছেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ করছেন?"
ভারত-বিরোধী কট্টরপন্থী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বিক্ষোভের আঁচে পুড়ছে বাংলাদেশ।
শশী থারুর ছাড়াও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং শিবসেনা (ইউবিটি) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও ময়মনসিংহে গণপুটুনিচে হিন্দু যুবকের হত্যার ঘটনার নিন্দা করেছেন।
কে ছিলেন সেই হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস?
ময়মনসিংহের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাস স্থানীয় কারখানার শ্রমিক ছিলেন। দীপুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে একদন উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে এবং তাঁর মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে ৭ জন গ্রেপ্তার
শনিবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এক্স-পোস্টে আপলোড করা ওই পোস্টে লেখা, 'ময়মনসিংহের ভালুকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সাত ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)
ধৃতরা হলেন- লিমন সরকার (১৯), তারেক হোসেন (১৯) , মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলি(৩৯) নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং মিরাজ হোসেন আকন(৪৬)'
বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস আরও জানিয়েছেন যে, পুলিশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
