আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্ট করা ভিডিও ঘিরে অপমানের জেরে প্রাণ হারালেন ৪২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। কেরালার কোঝিকোড়ে ঘটনাটি ঘটে। তাঁর বিরুদ্ধে বাসে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। রবিবার সকালে নিজের বাড়ি থেকেই দীপক ইউ নামের ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ দীপকের সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের প্রতিবেশীরা। ঘরে ঢুকতেই দেখেন, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। দীপক একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। গত শুক্রবার কাজের সূত্রে কান্নুর যাওয়ার পথে বাসে এক যুবতী তাঁর বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও করেন।

পেশায় ইনফ্লুয়েন্সার ওই যুবতী ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছাড়লে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ সেটি দেখেন। পরিবারের দাবি, ভিডিওটি দেখার পর থেকেই দীপক ভীষণ ভেঙে পড়েন, এমনকী গত দু’দিন ধরেই কিছু খাননি। তাঁর বাবা-মায়ের দাবি, তাঁদের ছেলে নির্দোষ ছিলেন। কেবল জনসমক্ষে এই চরম অপমান ও লোকলজ্জা সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ছেলেকে হারিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে বিতর্ক দানা বাঁধতেই ওই যুবতী ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন। পরে নিজের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আর একটি ভিডিও পোস্ট করলেও সেটিও পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, সমাজকর্মী রাহুল ঈশ্বর ওই যুবতীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, চেন্নাইয়ের কাছে এক পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে মারধর করা হল। অভিযোগে চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করল তামিলনাড়ু পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে ট্রেনের ভিতরে৷ সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, চেন্নাই থেকে তিরুত্তানিগামী একটি লোকাল ট্রেনের ভেতরে ওই চার জন মিলে এক ব্যক্তিকে ক্রমাগত হেনস্থা ও মারধর করছে। শুধু তাই নয়, হামলার পর রক্তাক্ত দেহের পাশে দাঁড়িয়ে এক অভিযুক্তকে ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখাতেও দেখা গিয়েছে। এমনকী সেই মারধরের ভিডিওর সঙ্গে তামিল গান জুড়ে দিয়ে তারা ইনস্টাগ্রামে ‘রিল’ বানিয়ে পোস্ট করে। এই ঘটনা ঘিরে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে৷ 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি তিরুভল্লুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত চারজনেরই বয়স ১৭ বছর। পুলিশ তাদের আটক করলে আদালত তিনজনকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে পড়াশোনার কথা বিবেচনা করে একজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। শিবগঙ্গার সাংসদ কার্তি চিদম্বরম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র অভিযোগ, শাসক দল ডিএমকে রাজ্যে মাদকের রমরমা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি, এই অপরাধীদের কিশোর নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা উচিত।

পাল্টা জবাবে ডিএমকে নেতা টিকেএস ইলানগোভান জানিয়েছেন, এটি একটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। তাঁর দাবি, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে, রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদেই আছেন। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷