আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই অভিযানের কথা ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের দাবি, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি বিশ্ব পণ্যবাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা চালিয়েছে। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশের  বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অভিযান মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, সোনা ও রুপোর দামে তীব্র ওঠানামার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার জেরে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, সোনা ও রুপোর দামে গ্যাপ-আপ ওপেনিং দেখা যেতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায় এই উত্তেজনার প্রভাব ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় আকারে পড়বে না বলেই মত তাঁদের।

ইয়া ওয়েলথ-এর ডিরেক্টর অনুজ গুপ্ত বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নতুন করে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে সেফ হেভেন হিসেবে সোনা ও রুপোর চাহিদা বাড়বে এবং জ্বালানি বাজারেও চাপ পড়বে। সোমবার সোনা, রুপো, তামা, অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনে গ্যাপ-আপ ওপেনিং দেখা যেতে পারে।”

তিনি আরও জানান, COMEX-এ সোনার দাম শুক্রবার বন্ধ হয়েছে প্রতি আউন্স ৪,৩৪৫.৫০ ডলারে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে তা বেড়ে ৪,৩৮০ ডলার ছুঁতে পারে। একই সঙ্গে COMEX-এ রুপোর দাম ৭৫ থেকে ৭৮ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল পিছু ৬২ থেকে ৬৫ ডলারে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ভারতীয় বাজার প্রসঙ্গে অনুজ গুপ্ত বলেন, “MCX-এ সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা এবং রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। MCX-এ অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ৫,২০০ থেকে ৫,৩০০ টাকার কাছাকাছি যেতে পারে।”

কেন বাড়বে বুলিয়ন ও তেলের দাম?

বাসভ ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ পান্ডে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সংঘাতের ফলে দক্ষিণ আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই রুট ব্যবহার করেই বিশ্বের অন্যতম বড় রুপো রপ্তানিকারক দেশ পেরু এবং চাদ তাদের রুপো রপ্তানি করে। এর ফলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা রুপোর দাম বাড়াবে। একই কারণে সোনার দামও ঊর্ধ্বমুখী হবে।”

ভারতীয় শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে সন্দীপ পান্ডে বলেন, “এই ভূরাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব ভারতীয় ইক্যুইটি বাজারে বড় আকারে পড়বে না। বাজার মোটের উপর স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তেল সংস্থার শেয়ারে সাময়িক চাপ দেখা যেতে পারে। যদিও এই পতন দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং শীঘ্রই ওই শেয়ারগুলি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করছেন, শুক্রবারের তীব্র বুলিশ সেশনের পর সোমবার সকালের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা দেখা যেতে পারে। ফলে বড়সড় আকারে কেনাবেচার পরিবর্তে সীমিত লেনদেনেই বাজার শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর ঢেউ কতটা গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা আগামী কয়েক দিনের বাজারগতির উপরই নির্ভর করবে।