আজকাল ওয়েবডেস্ক:  উন্নাও ধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে জামিন দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সিবিআই। একটি বিবৃতিতে সিবিআই জানিয়েছে, দিল্লি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় খতিয়ে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সিবিআই মুখপাত্রের মতে, “হাই কোর্ট যেভাবে সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে তাঁকে জামিন দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে।” তবে আপাতত সেঙ্গার জেলেই থাকবেন, কারণ ধর্ষিতা নাবালিকার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় তিনি এখনও ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।


উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সেঙ্গার তাঁর সাজার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেছিলেন। সেই আবেদনের কড়া বিরোধিতা করে সিবিআই ও নির্যাতিতার পরিবার। মামলায় সিবিআই সময়মতো লিখিত যুক্তি ও জবাব জমা দিয়েছিল। নির্যাতিতার পরিবারও নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করে। 


প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্ট জানায়, সেঙ্গার ইতিমধ্যেই সাত বছর পাঁচ মাস জেল খেটেছেন, সেই কারণে তাঁর সাজা আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ ও বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ সেঙ্গারকে ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং তিনটি জামিনদার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি শর্ত দেওয়া হয়, তিনি দিল্লিতে নির্যাতিতার বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে যেতে পারবেন না এবং নির্যাতিতা বা তাঁর মাকে কোনও ধরনের হুমকি দিতে পারবেন না।


এই নির্দেশের প্রতিবাদে ধর্ষিতা ও তাঁর মা দিল্লিতে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ তাঁদের জোর করে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একজন গণধর্ষণের শিকার নারীকে এইভাবে অত্যাচার করা কি ন্যায্য? ন্যায়বিচারের দাবি জানানো কি তাঁর অপরাধ?”। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে “হতাশাজনক ও লজ্জাজনক” বলেও মন্তব্য করেন।


তিনি আরও বলেন, “ধর্ষকদের জন্য জামিন আর নির্যাতিতাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ এটি কোন ধরনের বিচারব্যবস্থা? এমন অমানবিক ঘটনার মাধ্যমে শুধু মৃত অর্থনীতির দিকে নয়, মৃত সমাজের দিকেও এগোচ্ছি।” গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার আছে বলেও তিনি জোর দেন।


বুধবার রাহুল গান্ধী তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করেন। নির্যাতিতা ও তাঁর মা সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের জন্য একজন শীর্ষ আইনজীবীর সহায়তা চান। রাহুল গান্ধী তাঁদের সেই সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বলেন, নির্যাতিতার সঙ্গে  ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। 

&t=657s
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ট্রায়াল কোর্ট সেঙ্গারকে নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওই মামলাসহ সংশ্লিষ্ট সব মামলা উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এখন সেই মামলায় হাই কোর্টের জামিনের আদেশকে ঘিরেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আইনি লড়াই এবার নতুন মোড় নিয়েছে।