আজকাল ওয়েবডেস্ক: শ্বশুরবাড়িতে তুমুল অত্যাচার। বিয়েতে পাওয়া উপহার নিয়েই বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গৃহবধূ। সেই উপহার ফেরত চাওয়ায় পিটিয়ে খুন করা হল তাঁকে। খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর স্বামী ও ননদকে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম, কল্পনা সোনি। পালগড় জেলায় ৩৫ বছরের তরুণীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও ননদের বিরুদ্ধে। বিয়ে পরবর্তী অশান্তি এবং উপহার ফেরত চাওয়ার জেরেই গৃহবধূকে খুন করা হয়েছে বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০১৫ সালে মহেশ সোনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কল্পনা। সাত বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে তাঁদের। খুনের ঘটনার সময় নাবালিকা সন্তান বাড়িতেই ছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর ভিরারে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন কল্পনা।
কিন্তু বিয়ের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই কল্পনার ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। চূড়ান্ত অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কল্পনা। শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে শ্রীধন ফেরত চেয়েছিলেন তিনি। বিয়ের সময় তাঁর পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির তরফে যে উপহার তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, তাই ফেরত চেয়েছিলেন কল্পনা।
উপহার ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ঝামেলা শুরু হয়। ঘটনার দিন কল্পনাকে ধারালো, ভারী অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন মহেশ ও তাঁর বোন। রক্তাক্ত অবস্থায় কল্পনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশকে মহেশ প্রথমে জানিয়েছিলেন, বাথরুমে পড়ে গিয়ে কল্পনার মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, গুরুতর চোট পাওয়ার জেরেই, অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে কল্পনার মৃত্যু হয়েছে। মহেশ ও তাঁর বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসে আরও এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের রহস্য ফাঁস হয়। তিন বছর আগে বিষধর সাপের কামড়ে এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছিল। অবশেষে ফাঁস হয়েছে স্বামীর কীর্তি। দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনামাফিক স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় স্বামী-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন বছর তদন্তের পর এক যুবতীর রহস্যমৃত্যুর ধোঁয়াশা কেটেছে। তিন বছর আগে স্ত্রীকে খুন করেছিলেন স্বামী। অবশেষে গ্রেপ্তার স্বামী ও তাঁর তিন বন্ধু। বদলাপুর থানার পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষধর সাপ দিয়ে স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা ছিল স্বামীর। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সেই।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালে ১০ জুলাই বদলাপুর ইস্টে উজ্বালাদ্বীপ সোসাইটিতে নীর্জা রূপেশ আম্বেকর নামের এক যুবতীর রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু করলেও, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের ক্রমেই সন্দেহ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেই অসংগতি খুঁজে পায় পুলিশ।
দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, নিত্যদিন দাম্পত্য কলহের জেরে তিতিবিরক্ত ছিলেন ৪০ বছরের রূপেশ। স্ত্রীর সঙ্গে নিত্যদিন ঝামেলার বিষয়টি আরও দুই বন্ধুর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন। সেই দলেই সাপ উদ্ধারকজে পারদর্শী এক যুবককে যুক্ত করেন তাঁরা। সেই যুবক একটি বিষধর সাপ দিয়েছিলেন তাঁদের। সেই বিষধর সাপের কামড়েই যুবতীর মৃত্যু হয়।
তিন বছর পর ফাঁস হয়েছে, পরিকল্পনামাফিক যুবতীকে খুন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এফআইআর রুজু করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
