আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিসমাসের ঠিক আগে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত উপহার নিয়ে এলেন ওপেনএআইয়ের প্রধান কর্তা স্যাম অল্টম্যান। একটি সাধারণ ইমোজিকে কেন্দ্র করে লুকিয়ে থাকা বিশেষ এক ফিচারের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌতূহলের ঝড় তুলেছেন। এই অভিনব ফিচারটি চ্যাটজিপিটিকে পরিণত করছে এক অসাধারণ ক্রিসমাস ভিডিওতে।
এক্স-এ স্যাম অল্টম্যান একটি রহস্যময় পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ব্যবহারকারীদের চ্যাটজিপিটিতে মাত্র একটি ইমোজি পাঠিয়ে দেখার পরামর্শ দেন। পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বহু ব্যবহারকারী পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করেন। খুব দ্রুতই জানা যায়, উপহার ইমোজিটি পাঠালেই খুলে যাচ্ছে একটি বিশেষ ক্রিসমাস-থিমড ইন্টারঅ্যাকশন।
যখন ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিতে ইমোজিটি পাঠান, তখন চ্যাটবট প্রথমে একটি সেলফি আপলোড করতে বা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে অনুরোধ করে। এই ধাপটি সম্পন্ন হলে পুরো বিষয়টি চলে যায় ওপেনএআইয়ের ভিডিও জেনারেশন টুল ‘সোরা’-র কাছে। এরপর সোরা তৈরি করে একটি ছোট ক্রিসমাস ভিডিও।
এই ভিডিওটি সাধারণ কোনও শুভেচ্ছা নয়। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর আগের কথোপকথন ও আগ্রহ থেকে যে তথ্য শিখেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই ভিডিওর বিষয়বস্তু তৈরি হয়। ভিডিওতে দেখা যায় স্যান্টাক্লজকে, যিনি বছরজুড়ে ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ে মজার ছলে “রায়” দেন। কারও ক্ষেত্রে স্যান্টাক্লজ প্রশংসা করেন এবং এমন একটি উপহার দেন, যা ব্যবহারকারীর পছন্দ হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে তাঁকে ‘নটি’ ঘোষণা করে ইচ্ছাকৃতভাবে একেবারে অপ্রিয় কোনও জিনিস উপহার হিসেবে দেখানো হয়।
এই ফিচারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ব্যবহারকারীর কোনও সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ নেই। ভিডিওর গল্প, স্টাইল, এমনকি স্যান্টার সিদ্ধান্ত—সবকিছুই পুরোপুরি সোরা নির্ধারণ করে। ফলে প্রতিটি ভিডিওই হয় সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
তবে আপাতত এই সুবিধা সীমিত। প্রতিটি ব্যবহারকারী কেবল একটি ভিডিওই পাচ্ছেন। নতুন করে চ্যাট শুরু করে আবার ইমোজি পাঠালেও নতুন ভিডিও তৈরি হচ্ছে না, বরং আগের ভিডিওটিই ফিরে আসছে।
এই মজাদার ক্রিসমাস ফিচারটি দেখাচ্ছে, কীভাবে ওপেনএআই চ্যাট, ছবি ও ভিডিও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে মিশিয়ে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা তৈরির পরীক্ষা চালাচ্ছে। যদিও এটি নতুন উদ্যোগ, তবুও ক্রিসমাসের আনন্দে চ্যাটজিপিটিতে যোগ হয়েছে এক নতুন, হালকা রং।
