আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপরেই মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপের প্রধান দেশগুলির প্রধানরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একটি যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, আর্কটিক দ্বীপটি শুধুমাত্র সে দেশের জনগণেরই সম্পত্তি।
ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, ব্রিটেন এবং ডেনমার্কের নেতাদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই রয়েছে।” নেতারা বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিতভাবে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ন্যাটো এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আর্কটিক অঞ্চল রক্ষা অগ্রাধিকার এবং ইউরোপীয় মিত্ররা সেই উদ্দেশ্যে তৎপরতা হচ্ছে। আর্কটিককে নিরাপদ রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ করতে আমরা এবং আরও অনেক মিত্র আমাদের উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছি।” আরও বলা হয়েছে, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডেরই আছে।”
চিঠিটিতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, এবং ইতালি, স্পেন ও পোল্যান্ডের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন।
ট্রাম্প এর আগে বারবার বলেছিলেন যে তিনি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান। রবিবার ‘দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন’ বলেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। প্রতিরক্ষার জন্য আমাদের এটি প্রয়োজন।” গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা ওয়াশিংটনের ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে এই উদ্বেগ নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে যে গ্রিনল্যান্ডও একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ এবং এর জনসংখ্যা ৫৭ হাজার। এটি ন্যাটো-র কোনও স্বাধীন সদস্য নয়। তবে, পশ্চিমি সামরিক জোট অনুযায়ী ডেনমার্কের সদস্যপদের আওতায় গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝে দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে। চীনা রপ্তানির উপর নির্ভরতা কমাতে এর খনিজ সম্পদও ওয়াশিংটনের নজরে রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন সোমবার বলেছেন যে তাঁর সরকার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চাইছে। গ্রিনল্যান্ডের নাগরিকদের আমেরিকার হুমকিতে না পাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
