আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে যে তথ্য সামনে আসছে, তাতে শিউরে উঠছে বিশ্ব। তথ্য, ইরানে দিনে দিনে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লিখিত, নতুন এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এই ভয় ধরানো তথ্য। কী বলা হচ্ছে তাতে? জানা গিয়েছে পথে নেমে কাজ করছেন যেসব চিকিৎসকরা তাঁরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত ১৬৫০০ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, আহত তিন লক্ষের বেশি। সূত্রের খবর, রিপোর্টে উল্লিখিত, বেশিরভাগ আহত এবং নিহতদের বয়স ৩০ বছরের নীচে।
ইরানি-জার্মান চক্ষু সার্জন এবং মিউনিখ এমইডি-র মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক আমির পারাস্তা জানিয়েছেন, ইরান এবার বিক্ষোভ মোকাবেলায় সামরিক-গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করছে, কারণ বিক্ষোভকারীদের মাথা, ঘাড় এবং বুকে গুলির এবং ছুরির আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। তেমনটাই উল্লিখিত প্রতিবেদনে।
তথ্য, ইরানের আটটি প্রধান চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬টি জরুরি বিভাগের কর্মীদের দ্বারা সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, কমপক্ষে ১৬,৫০০ থেকে ১৮,০০০ মানুষ নিহত এবং ৩৩০,০০০ থেকে ৩৬০,০০০ আহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাও রয়েছে, রিপোর্টে বলা হয়েছে তেমনটাই।
সেখানে কমপক্ষে ৭০০ থেকে ১,০০০ মানুষের একটি বা দুটি চোখ নষ্ট হয়েছে। তেহরানের একটি মাত্র হাসপাতাল, নূর ক্লিনিক, চোখের আঘাতের ৭,০০০টি ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট, ইরানি রিয়ালের তীব্র পতন, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম ইত্যাদি কারণে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে ইরানে। নিশানা শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তেহরানের বাজারগুলোতে এবং দ্রুত তা অন্যান্য অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানদার, ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিকরা জীবনযাত্রার খারাপ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। অর্থনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন খামেনেইয়ের শাসনকে উৎখাত করার জন্য অন্যতম বৃহত্তম দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সংস্কার এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনের অবসানের দাবি জানাচ্ছেন।
এর আগে হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
