আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যাকটেরিয়া নিয়ে অশনি সঙ্কেত দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতি ছয়টি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে একটিকে এবার জয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। এর প্রধান কারণ হল তার ক্ষমতাবৃদ্ধি। আসলে এই ধরণের ব্যাকটেরিয়াতে আর কোনও কাজ করবে না অ্যান্টিবডি। ফলে সেখান থেকে যদি এই ব্যাকটেরিয়ার হামলা হয় তাহলে সেই ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত।
মোট ১০০ টি দেশের ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্তে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরফলে আগামীদিনে ব্যাকটেরিয়া জয় করা আরও কঠিন হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশের ব্যাকটেরিয়া এবার থেকে অ্যান্টিবডিকে জয় করতে পারবে। ২০২৮ থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই খবর।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্যাকটেরিয়া থেকে এটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর বিশ্বের বাকি দেশে এর সম্প্রসারণ ঘটেছে। যেসব দেশে এখনও স্বাস্থ্য কাঠামো সঠিক নেই সেখানে এই ঘটনা বেশি হয়েছে বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ই কোলাই এবং নিউমোনিয়া। এই দুটি এত দ্রুত রক্তের সঙ্গে মিশছে যে সেখান থেকে দেহের বেশ কয়েকটি অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রক্তের মধ্যে দ্রুত মিশতে পারে বলে ই কোলাই এবং নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া নিজেদেরকে শক্তিশালী করেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে এই ধরণের ব্যাকটেরিয়া ঝড়ের গতিতে ছড়িয়েছে। সেখান থেকে এদের আটকানো আগামীদিনে প্রায় অসম্ভব।
পৃথিবীতে ওষুধ আবিষ্কারের একটি শেষ পর্যায় রয়েছে। তারপর দেহ আর অ্যান্টিবডি নিতে পারবে না। সেখানে এই ব্যাকটেরিয়াকে সামলোনো প্রায় অসাধ্য হবে বিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে প্রতিটি মানুষ নিজের দেহে কতটা শক্তি তৈরি করতে পারবে তার ওপরই নির্ভর করবে এই ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত।
&t=3s
২০২৯ সালের একটি সমীক্ষা দেখা গিয়েছে দেহে অতিরিক্ত অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষেত্রে পৃথিবীতে প্রায় ১.২৭ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যাটি প্রতি বছরেই বাড়ছে। সেখানে নানা ধরণের রোগের ফলেই সকলের মৃত্যু ঘটেছে। এইচআইভি, ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুর হার এই সময় বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২০ জন ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করবে। এই হার প্রতিবছরই বাড়ছে। একে রোখা প্রায় অসম্ভব।
