আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, সোমবার ঢাকায় জামাত-ই-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অফ মিশন লিউ ইউয়িন, রাজনৈতিক পরিচালক ঝাংজিং এবং অন্যান্য চিনা কর্মকর্তারা। সূত্রের খবর, উভয় পক্ষ চিন ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন। জামাত বলেছে, চিন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা ব্যক্ত করে জামাত বলেছে, এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

বৈঠকের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র এক মাস বাকি। জামাত আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি-র সঙ্গে জোট বেঁধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যুব দল এনসিপি গত বছরের ছাত্র অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।

সূত্রের খবর, চিন অবগত যে ভোটের সময় জামত বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক না কেন, জামাতের সাংগঠনিক বিস্তৃতি, ক্যাডারদের শৃঙ্খলা এবং সমর্থকদের রাস্তায় নামানোর ক্ষমতা রাজনৈতিক অস্থিরতার মুহূর্তে দলটিকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিয়ে থাকে। চিনের চিন্তা নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাস নিয়ে। দুর্বল  জোট এবং অপ্রত্যাশিত ফলাফলের আশঙ্কায় সকল সম্ভাব্য দাবিদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে বেজিং। সূত্রের দাবি, জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে চিন একটি বিকল্প পথ খোলা রাখতে পারে। 

বেজিংয়ের জন্য নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে বাংলাদেশে বন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সংযোগ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে সেই সব প্রকল্প ব্যাহত হবে। স্থানীয় রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে বেজিং নির্বাচন-পর্বে চিনা প্রকল্প এবং কর্মীদের সুরক্ষার আশ্বাস চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র মতে, জামাতের ভারতবিরোধী আদর্শ কাজে লাগিয়ে ঢাকার উপর নয়াদিল্লির প্রভাব শিথিল করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

গত বছর শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চিনা সরকারের আমন্ত্রণে চিন সফর করে। ২০২৪ সালের পর সেটি দ্বিতীয় চিন সফর ছিল। বাংলাদেশর সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে দলটির মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সফরটিকে ‘জামাত এবং বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

এই সফরের আগে ঢাকায় চিনা দূতাবাস আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইয়াও ওয়েন এবং শফিকুর রহমান উভয়েই উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের সফরে চিনে জামাতের পূর্ববর্তী প্রতিনিধি দলে এর ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের নেতা-সহ আরও চারটি ইসলামি দলের ১৪ জন সদস্য ছিলেন।

এই সফরের পরপরই বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন যে, হাসিনা সরকারের আমলে গত এক দশকে চিন বিএনপি ও জামাত ইসলামি সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেনি। এখন সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে।