নিজস্ব সংবাদদাতা: কাশ্মীরের পহলগাওঁয়ে মঙ্গলবার বিভীষিকাময় জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক নিরীহ পর্যটকরা। ঘটনাস্থলেই নিহত ২৬ জন, গুরুতর আহত আরও ২০। ফুঁসছে গোটা দেশ। আর কাশ্মীর? মনখারাপের ফিনফিনে অদৃশ্য চাদর দিয়ে কে যেন ঢেকে দিয়ে গোটা ভূস্বর্গকে। কাশ্মীরিদের হাসাহাসি নয়, পর্যটকদের কাছে শাল, পশমিনা, ফল বিক্রির হাঁকডাক নয়, কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনীর টহলের বুটের গম্ভীর আওয়াজ। কখনও বা ফাঁকা রাস্তার চকে পাক খাচ্ছে শুকনো হাওয়া। গত ২০ বছর ধরে কলকাতায় আসেন শ্রীনগরের বাসিন্দা মেহরাজ চোখতো। নিয়ম করে। শীত তখনও তার আড়মোড়া ভাঙে না এ শহরে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাশ্মীরের শাল, পশমিনা, চাদর, টুপি, মাফলার ফিরি করে বেড়ান মেহরাজ। চেনা বাড়িতে হাজির হয়ে জুড়ে দেন খোশগল্প। উপহার হিসাবে প্যাকেটে মুড়ে নিয়ে আসেন ড্রাই ফ্রুটস, একটুখানি জাফরান। খদ্দেরদের বাড়িতে জল, মিষ্টি খেতে খেতে চলে দেদার গল্প।  আজকাল ডট ইন-কে ফোনের ওপার থেকে মেহরাজ জানালেন পহলগাওঁয়ে বিভীষিকাময় জঙ্গি হামলার পর তাঁদের অর্থাৎ কাশ্মীরীদের অনুভূতি। সেখানকার অবস্থা। 

 

“খুব খারাপ হয়ে আছে মনটা। ভীষণ, ভীষণ খারাপ। জানি না এরকম আর কী কী দেখতে হবে আমাদের। আমার বয়স ৫০ পেরিয়ে গিয়েছে, পর্যটকদের উপর হামলা, হত্যা আগে কখনও দেখিনি। পর্যটকরা-ই তো আমাদের রাজ্যের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। তাঁদের-ই কি না মারল! এরকম করে! বিশ্বাস করুন,  ঘেন্না লাগছে... যারা এসব করেছে তারা শয়তান! নরকেও তাদের ঠাঁই হবে না। তারা যে পাপটা করল, যে দাগ লাগিয়ে দিল আমাদের স্বর্গের বুকে সে দাগ আমরা কবে মুছতে পারব জানি না। এ আমার কথা নয়। গোটা কাশ্মীরের কথা। কাশ্মীরীদের কথা, যারা আপনাদের মতোই সাধারণ মানুষ।  আর শুনুন, একটা কথা বলি। হয়তো শুনেছেন অনেকবার, তবু বলব আমি। যারা এই নারকীয় কাণ্ড করেছে তাদের কোনও ধর্ম হয় না - তারা জঙ্গি! জঙ্গি! জঙ্গি!”

 

ফোনের অন্য প্রান্তে জোরে জোরে শ্বাসের শব্দ। তারপর একেবারে চুপ। ফের কথা যখন শুরু হল গলা তখন তিরতির করে কাঁপছে মেহরাজের – “আমরা, কাশ্মীরীরা কোনওদিন আমাদের অতিথির ধর্ম, জাত নিয়ে ভাবিনি, ভাবি না।  আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে কলকাতার কত মানুষ কাশ্মীরে এসেছেন, আমাদের দেশের ভূস্বর্গ ঘুরেছেন তার হিসেব রাখিনি। কাশ্মীর এখন থমথমে। পহলগাওঁ তো বন্ধ পুরোপুরি। আমাদের শ্রীনগরের অবস্থায় তথবৈচ। শ্রীনগর বলেই দু’একটা গাড়ি চলছে। সেনার টহলদারি চলছে। দোকানপাট বেশিরভাগ বন্ধ। ডাল লেক থেকেও কোনও আওয়াজ ভেসে আসছে না। যাঁরা অকালে চলে গেলেন, তাঁদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। সত্যিই নেই। শুধু এটুকু বলব... আমাদের ভুল বুঝবেন না, এটুকুই অনুরোধ।”