আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভিডিও কল বা ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করার দৌরাত্ম্য সম্প্রতি বেড়েই চলেছে। এবার কর্ণাটকের বেলগাভিতেও এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযুক্তদের নাম সমীর নিসার আহমেদ শেখ, আব্দুল রশিদ নাজির আহমেদ মাকান্দার এবং মহম্মদ দিলাওয়ার বালেকুন্দ্রি। অভিযুক্তরা সকলেই গোকাক এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু দৃশ্য গোপনে ক্যামেরাবন্দি করেছিল ওই চক্রটি। এর পর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি মালমারুতি থানায় অভিযোগ জানালে তদন্তে নামে পুলিশ। এর পরেই ওই তিন জনকে জালে তোলা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ, মেমোরি কার্ড এবং গোপন ক্যামেরার সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এমনকী অপরাধের কাজে ব্যবহৃত একটি দামি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু হয়েছে। এই চক্রটি আর কাউকে একইভাবে ব্ল্যাকমেল করেছে কি না, বর্তমানে তা খতিয়ে দেখছে মালমারুতি থানার পুলিশ।

অন্যদিকে, প্রেম নিয়ে ভুল সন্দেহে চরম শোরগোল। মুসলিম যুবতীর সঙ্গে সম্পর্কের ‘ভুল’ সন্দেহে কর্নাটকের কোপ্পাল জেলায় এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল। প্রতিবেশী ওই যুবকের অপরাধ ছিল স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনা। বিবাদের জেরে ঘর ছেড়েছিলেন স্ত্রী। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বসপত্তনা গ্রামের বাসিন্দা আজমীর ও আফিয়া নামে এক দম্পতির মধ্যে সম্প্রতি ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি রওনা দেন আফিয়া। তাঁকে সাহায্য করতে আজমীর তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী বন্ধু ভেঙ্কটেশকে অনুরোধ করেন যেন তিনি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে আফিয়াকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। বন্ধুর অনুরোধে ভেঙ্কটেশ বাসস্ট্যান্ডে যানও। সেখানে যেতেই ঘটে বিপত্তি৷ 

অভিযোগ, সেখানে ভেঙ্কটেশকে ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলতে দেখে একদল যুবক ভুল বোঝে। তাঁদের মধ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহে কোনও কথা না শুনেই ভেঙ্কটেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। স্থানীয়রা চিৎকার করে ভেঙ্কটেশকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও উন্মত্ত জনতা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত যুবক ও ওই মুসলিম পরিবারটি গত ১৫ বছর ধরে একে অপরের ঘনিষ্ঠ।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত খাজা পীর-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বাদ যাননি আজমীরও। কিন্তু এর পরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। থানায় অভিযুক্তদের হয়ে ভিড় জমিয়ে পাল্টা ভেঙ্কটেশের বিরুদ্ধেই মামলার দাবি তোলা হয়। 

ঘটনাস্থলে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা। নীল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে পুলিশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দিতেও দেখা যায়। গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।