আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন, অর্থাৎ আগামী সোমবারও আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সূত্র মারফত তেমনই খবর মিলেছে।
যদিও, প্রকাশ্যে নিশ্চিত করে এখনও দলের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে মমতা ব্যানার্জির ফের আদালতে উপস্থিত হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন মমতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কথা মন দিয়ে শোনে আদালতও। পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় সোমবার।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। গোটা পরিস্থিতির ব্যাখা করতে পারি। এসআইআর-এর নামে কী চলছে, বলার জন্য পাঁচ মিনিট সময় চাই। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ছ'বার চিঠি দিয়েছি। কোনও উত্তর পাইনি। কোনও বিচার পাইনি। বিয়ের পর পদবি পরিবর্তনের জন্যেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই লড়াই দলের জন্য নয়, রাজ্যের জন্য।'
প্রধান বিচারপতি বলেন, 'মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, নিশ্চয়ই চান না? যাঁরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে গেলেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, নিশ্চয়ই চান না?'
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ জানান, 'বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজারভার নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরাই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছেন। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছেন। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন। অসমে কেন এসআইআর হচ্ছে না? হঠাৎ ভোটের আগে ২৪ বছর পর কেন বাংলায় এসআইআর হচ্ছে?'
সওয়ালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমার কাছে কিছু ছবি রয়েছে। সেটি দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক। সেটি আমার ছবি না। প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের ছবি। আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে। ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন! বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে।'
মমতা বক্তব্য, 'এসআইআর শুধুমাত্র নাম মোছার একটা প্রক্রিয়া। অপরিকল্পিতভাবে চার মাস ধরে চলছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে লোক আনা হচ্ছে। ৫৮ লক্ষের নাম মোছা হয়েছে। ওঁদের আবেদন জানানোর উপায়ও নেই। শুধুমাত্র বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে। বাংলার মানুষের উপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে।'
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, 'বিয়ের পর পদবি বদল, দরিদ্র মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন, সবটাই নাকি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। বাংলার মানুষ খুশি যে আদালত আধারকে নথি হিসেবে গ্রাহ্য করতে বলেছে। অন্য রাজ্যে ডমিসাইল সার্টিফিকেট চলছে, জাতি শংসাপত্র চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।'
মমতা আরও বলেন, 'দু'মাসে ওরা যা করছে, তা করতে দু'বছর সময় লাগে। বিএলও-রা আত্মহত্যা করছেন। শুধুমাত্র বাংলাকেই টার্গেট করা হয়েছে। অসম কেন নয়? ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন, সরি, হোয়াটসঅ্যাপ কমিশনের জন্য এগুলো ঘটছে।'
সওয়ালের শেষে মমতা বলেন, 'মানুষের অধিকার রক্ষা করুন।' বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।
