আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাজধানী ক্যারাকাসে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস মিরাফ্লোরেসের কাছে গুলির শব্দ ও তীব্র সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।

মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পরই দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় মিরাফ্লোরেস প্যালেসের আকাশে একাধিক ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এর পরই নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালায়। যদিও ভেনেজুয়েলার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, ‘আমরা এই ঘটনায় জড়িত নই। গুলি চালানোর ঘটনার দিকে প্রতিনিয়ত নজর রাখা হচ্ছে।’

তবে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মিরাফ্লোরেস প্যালেসের আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই গুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তবে এই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই সোমবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

একই সময়ে অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

সপ্তাহান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সময়ই মাদুরোকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদ সংস্থা এএফপি-র খবর অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় মিরাফ্লোরেস প্যালেসের উপর অজ্ঞাত পরিচয়ের ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার পরই নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে এক নজিরবিহীন অভিযানে মার্কিন বাহিনী ক্যারাকাসের একটি সামরিক ঘাঁটির ভিতরে অবস্থিত মাদুরোর বাসভবন থেকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

পরে নিউইয়র্কে তাঁদের বন্দি অবস্থায় ছবি প্রকাশ্যে আসে। জানা গিয়েছে, সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজিরা দিয়েছেন সস্ত্রীক মাদুরো। শনিবার ভোররাতে কারাকাসে বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন বাহিনী।

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরেই খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এক রাষ্ট্রপ্রধানের অপর রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তারের ঘোষণায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বিশ্বরাজনীতিতেও।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোর দু'টো থেকে কারাকাস জুড়ে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর আসার পরেই এই দাবিটি করা হয়। বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণে শহরের একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে, মাথার বেশ নীচ দিয়ে বিমান উড়তে দেখা যায়, যার ফলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

তারপরেই নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ভেনেজুয়েলা এবং তাঁর নেতার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে দেশ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার উপর হামলা চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।