'ধুরন্ধর' ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জেরে ইদানীং বিনোদন দুনিয়ার শিরোনামে রয়েছেন অক্ষয় খান্না। দর্শকদের একাংশের মতে, ছবিতে তাঁর পারফরম্যান্স নায়ক রণবীর সিং-কেও যেন ছাপিয়ে গিয়েছে। নতুন করে অক্ষয়ের অভিনয়ে মজেছেন সিনেপ্রেমীরা। এই দাপুটে অভিনেতা যতটা তাঁর অভিনয়ের জন্য পরিচিত, ততটাই চর্চায় তাঁর লুকের জন্যও। খুব কম মানুষই জানেন, তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সেই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছিলেন। এত অল্প বয়সে চুল কমে যাওয়া তাঁর জীবনে বড় মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।
এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় খান্না বলেছিলেন, একজন অভিনেতার কাছে চেহারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অল্প বয়সে চুল পড়া শুরু হওয়ায় তিনি নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে করতেন। তাঁর কথায়, এটা ছিল ঠিক যেন একজন পিয়ানোবাদকের হাতের আঙুল হারিয়ে ফেলা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাস্তবকে মেনে নিয়ে নিজের অভিনয়কেই শক্তি বানিয়েছেন।
আজ অক্ষয়ের এই অভিজ্ঞতা অনেক তরুণের সঙ্গেই মিলে যায়। বর্তমানে বহু ছেলে-মেয়েই অকাল টাক পড়া বা দ্রুত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, চুল পড়া মানেই বংশগত সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সব সময় বিষয়টি জেনেটিক হয় না।
চুল তাড়াতাড়ি পড়ার একটি বড় কারণ হল, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। পড়াশোনা, চাকরি, পারিবারিক চিন্তা-এই সব মিলিয়ে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাব সরাসরি চুলের গোড়ায় পড়ে এবং চুল দুর্বল হয়ে ঝরতে শুরু করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল খাবারের অভাব ও অনিয়মিত জীবনযাপন। শরীরে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি, জিঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি কম থাকলে চুল ঠিকভাবে বাড়তে পারে না। ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া, সবজি ও ফল কম খাওয়ার অভ্যাস চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া ধূমপান, দূষণ, কম ঘুম এবং ভুল হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারও চুলের ক্ষতি করে। বেশি কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু, হেয়ার কালার বা জেল নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। কিছু ওষুধ ও শারীরিক সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে।
অকাল টাক পড়ার প্রভাব শুধু চেহারায় নয়, মনেও পড়ে। অল্প বয়সে চুল কমে গেলে অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারান, নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করতে শুরু করেন। অক্ষয় খান্নার জীবন তারই উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুল পড়া শুরু হলেই ভয় না পেয়ে আগে কারণ খুঁজে বার করা জরুরি। সঠিক খাবার, মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
