লেবু জলকে দীর্ঘদিন ধরেই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়। অনেকেই প্রতিদিন সকাল শুরু করেন এক গ্লাস উষ্ণ লেবু জল দিয়ে, এই আশায় যে এতে মেদ ঝরবে। তবে শুধু লেবু খেলেই ওজন কমে যায়, এমনটা নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে লেবু ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। লেবুতে ক্যালোরি কম, ভিটামিন সি প্রচুর এবং চিনি বা ফ্যাট ছাড়াই খাবারে স্বাদ যোগ করে। এটি শরীরের জলশূন্যতা দূর করতে, হজমশক্তি বাড়াতে এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস কোচ গুরপ্রীত গ্রোভার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সকালে লেবু জল খেলেই যথেষ্ট নয়। বরং দিনের বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে লেবু ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া আরও সহজ, সুস্বাদু ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে।

লেবু জল খেলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি জল পান করে। পর্যাপ্ত জলপান খিদে নিয়ন্ত্রণ ও ওজন ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে। লেবু ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ, যা কোষকে সুরক্ষা দেয়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সামগ্রিক বিপাকক্রিয়াকে উন্নত করে। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড হজমরস নিঃসরণে সহায়তা করে, ফলে হজম ভাল হয়। লেবু জল পেট ভরা ভাব তৈরি করতে পারে, যা অতিরিক্ত খাওয়া কমায়। এছাড়া লেবুর ঘ্রাণ ও স্বাদ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, ফলে স্ট্রেসজনিত অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর উষ্ণ লেবু জল দিয়ে দিন শুরু করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে মধু বা চিনি না দেওয়াই ভাল, যাতে অতিরিক্ত ক্যালোরি না বাড়ে।

ক্রিমি সসের বদলে অলিভ অয়েল, ভেষজ মশলা ও লেবুর রস দিয়ে স্যালাড ড্রেসিং বানালে কম ক্যালোরিতে বেশি স্বাদ পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত নুন বা চিনি এড়ানো যায়।

গ্রিন টি, আদা চা বা দারচিনি দেওয়া চায়ে লেবু যোগ করলে স্বাদ বাড়ে। গ্রিন টি ও লেবুর সংমিশ্রণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণেও সহায়ক।

খাবারে লেবুর খোসা কুরিয়ে ব্যবহার করা যায়। স্টার ফ্রাই, গ্রিলড সবজি, স্যুপ বা রোস্ট করা মাংসে এতে স্বাদ বাড়ে। এবং বাড়তি নুন বা ভারী সসের প্রয়োজন কমে।

পনির, মাছ, ডাল বা গ্রিলড প্রোটিনজাত খাবারের সঙ্গে লেবু যোগ করলে আয়রন শোষণ ও হজম ভালো হয়। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে ফলে অকারণে স্ন্যাকিং কমে।

লেবুর স্লাইস, পুদিনা, শসা বা বেরি দিয়ে জল খেলে সাধারণ জল পান আরও আকর্ষণীয় হয়, যা খিদে নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।

ঘরে বানানো চাটনি, দইয়ের ডিপে লেবুর রস ব্যবহার করলে ক্যালোরি-সমৃদ্ধ মেয়োনেজ বা ভারী স্প্রেডের বদলে হালকা ও টাটকা বিকল্প পাওয়া যায়।
গুরপ্রীতের মতে, লেবু তখনই ওজন কমাতে সহায়ক হয়, যখন তা সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত লেবু  বা খাবার বাদ দেওয়ার মতো চরম পদ্ধতি উপকারের বদলে ক্ষতিই করতে পারে।