থমকে যাবে বয়সের কাঁটা। বাড়ার বদলে বরং কমবে ত্বকের বয়স। ভাবছেন এই অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট করাতে কোনও ইনজেকশন নিতে হবে? বা সার্জারি করাতে হবে? একেবারেই নয়। বরং সাধারণ লাইট এনার্জি ট্রিটমেন্টেই হবে কামাল। কী সেটা? রেড লাইট ট্রিটমেন্ট বা থেরাপি।
বর্তমানে এই রেড লাইট থেরাপি রীতিমত টেন্ডিং। বিভিন্ন খেলোয়াড় থেকে শুরু করে তারকা, এমনকী নাসাতেও এই ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এই থেরাপিতে ত্বকের কোষ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত সুপারচার্জ হতে পারে। কিন্তু কীভাবে কাজ করে, কীভাবেই বা হয়ে থাকে এই ট্রিটমেন্ট? সবটা জেনে নিন।
১৯৯০ এর দশকে এই রেড লাইট থেরাপি প্রথম পরীক্ষা করে দেখে নাসা। সেখানে ৬৬০ এবং ৮৫০ এনএম ওয়েভলেন্থের আলো ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে কোষের পাওয়ারহাউজ অর্থাৎ মাইটোকোন্ড্রিয়াকে এনার্জি দেওয়া হয়। কোনও রকম অতি বেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে হয় না। থাকে সামান্য তাপ এবং আলোর ব্যবস্থা যাতে বডি একদম ভিতর থেকে এনার্জি পেতে পারে।
লাল আলো কোষের এনার্জিকে স্টিমুলেট করে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই থেরাপির মাধ্যমে মাইটোকোন্ড্রিয়াল আউটপুট ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর কারণে দ্রুত ক্ষত সেরে যাওয়া, প্রদাহ কম হওয়া এবং অ্যান্টি এজিং এফেক্ট দেখা যাবে ত্বকে।
কোলাজেন ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বলিরেখা কমে। ত্বকের নমনীয়তা বাড়ে। সবটা মিলিয়ে ত্বকের বয়স বাড়ে না। বরং আপনার বায়োলজিক্যাল এজের তুলনায় অল্পবয়সী দেখায়।
কেবল ত্বকের উপকার নয়, লাল আলোর এই থেরাপিতে উপকৃত হয় চুলও। চুলের ঘনত্ব বাড়ে। নতুন চুল গজায়। মাত্র ২৪ সপ্তাহে ৩৯ শতাংশ চুলের ঘনত্ব বাড়ে।
ক্ষত, ফোলাভাব কমায় রেড লাইট থেরাপি। এবং তা দ্রুত গতিতে। আর্থরাইটিস বা গাঁটের ব্যথাও কমায় এই থেরাপি। প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যায় গাঁটের ব্যথা লাল আলোর থেরাপি করালে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় এমনটাই দেখা গিয়েছে।
মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন বাড়ে। একই সঙ্গে ৫০ শতাংশ দ্রুতি গতিতে কোষ মেরামত করে এই রেড লাইট থেরাপি। গভীর ভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে। মেলোটোনিন উৎপাদন বেশি করে।
মেদ ঝরিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে রেড লাইট থেরাপি। পাশাপাশি উর্বরতা বাড়ায়।
তবে খেয়াল রাখতে হবে। যে কোনও আলো হলেই হবে না। ৬৬০ থেকে ৮৫০ এনএম ওয়েভলেন্থের আলো চাই। ফলাফল দেখার জন্য প্রতি সপ্তাহে ৩ থেকে ৫টি সেশন করা উচিত। সস্তার প্যানেলের আলো ব্যবহার না করাই ভাল, সেই আলোগুলো ত্বকের বেশি গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।
তাহলে কি এই রেড লাইট থেরাপির কোনও নেতিবাচক এফেক্ট নেই? গবেষণায় দেখা গিয়েছে সেটা সামান্যই। ঘন ঘন বা একদিনে একাধিক সেশন না করাই ভাল। গর্ভবতী থাকলে চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নিন যে এই ট্রিটমেন্ট করতে পারবেন কিনা। এফডিএ ক্লিয়ার্ড ডিভাইস ব্যবহার করবেন নিরাপত্তার জন্য।
