আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা জ্বালিয়ে দিয়েছিল বৈভব সূর্যবংশীকে। 

সেদিন ওই হোয়াটসআপ মেসেজ যদি না করতেন বৈভবের ছেলেবেলার মেন্টর, তা হলে হয়তো ফাইনালে বিধ্বংসী ইনিংসটা খেলতে পারতেন না। 

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জয়ের পরে মণীষ ওঝা বৈভবকে লেখেন, ''তুমি দুর্দান্ত ব্যাটিং করছ। কিন্তু একটা সেঞ্চুরিও কিন্তু করতে পারোনি।'' 

আর ওই মন্তব্য জ্বালিয়ে দিয়েছিল বৈভবকে। ফাইনালে তিনি ধরা দিলেন এক অন্য অবতারে। ইংল্যান্ডকে একার হাতে উড়িয়ে দিলেন তিনি। 

মণীষ ওঝার ওই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার প্রত্যুত্তরে বৈভব লিখেছিলেন, ''ইয়েস স্যর।'' পরে মণীষের মনে হয়েছিল, তিনি বোধহয় চাপ বাড়িয়ে দিলেন বৈভবের উপরে। কিন্তু ফাইনালে বৈভব পরিণত ব্যাটিং করেন। 

ম্যাচ সেরা ও টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার জিতে নেন। এতকিছুর পরেও কিন্তু বৈভব সূর্যবংশীর এখনই সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে খেলা হচ্ছে না। 

আইসিসি-র একটি নিয়মে আটকে যাচ্ছেন তিনি। 

২০২০ সালে আইসিসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সিনিয়র পর্যায়ে খেলার জন্য ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত একটি বিধি চালু করে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সিনিয়র লেভেলে (টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি) অংশ নিতে পারবেন যখন খেলোয়াড়ের বয়স অন্তত ১৫ বছর হয়, অথবা খুব বিরল ক্ষেত্রে আইসিসি বিশেষ ছাড়পত্র দেয়। 

সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে খেলতে হলে ম্যাচের দিন খেলোয়াড়ের বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। আইসিসি চাইলে ১৫ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়কেও অনুমতি দিতে পারে, তবে তার জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডকে প্রমাণ করতে হবে যে খেলোয়াড়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা, মানসিক পরিপক্বতা এবং শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বোর্ড যেমন ভারতের ক্ষেত্রে বিসিসিআইকে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ অনুমতির আবেদন জানাতে হয়।

বর্তমানে বৈভব সূর্যবংশীর বয়স ১৪ বছর। তিনি ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ ১৫ বছরে পা দেবেন। ফলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, আপাতত ভারতের সিনিয়র দলে তাঁর খেলার যোগ্যতা নেই, যদি না আইসিসি কোনও বিশেষ ছাড় দেয়।

এই কারণে, যাঁরা আশা করছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বৈভবকে সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, সেখানে জানিয়ে রাখা ভাল ২৭ মার্চের আগেই অনুষ্ঠিত হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বৈভবের খেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই।

তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি বৈভবের অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে বিসিসিআই সন্তুষ্ট হয়, তাহলে আইসিসির কাছে বিশেষ অনুমতি চাওয়া হতে পারে। এখন দেখার, এই বিস্ময় প্রতিভাকে কত দ্রুত আন্তর্জাতিক মঞ্চের সিনিয়র লেভেলে দেখা যায়।