আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটি, দুইটি নয়। একাধিক কুমির ঘুরে বেড়াচ্ছে লোকালয়ে। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো চলে আসছে লোকালয়ে। কখনও খাবারের সন্ধানে রাস্তাতেই ঘুরছে, কখনও বা বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে, কখনও আবার ঢুকে পড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেও। বন্যা বিধ্বস্ত গুজরাটে কুমিরের কারণে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বন্যার মাঝেও ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার ভদোদরা জেলায় যত্রতত্র কুমির ঘুরে বেড়ানোর একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশ্বামিত্রি-সহ বেশ কয়েকটি নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। জানা গিয়েছে, বিপদসীমার ৯ থেকে ১২ ফুট উপরে নদীর জলস্তর বর্তমানে। নদীর জলে ভেসে গেছে জনবসতিপূর্ণ বিস্তীর্ণ এলাকা। সেখানেই ঘুরে বেড়াচ্ছে একাধিক কুমির। ভদোদরায় কুমির আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বন দপ্তর। ১০, ১১ ফুটের একাধিক কুমির ইতিমধ্যেই উদ্ধার করেছেন বন দপ্তরের কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে গুজরাটে বন্যা পরিস্থিতি বিভিন্ন জেলায়। গত তিনদিনে এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গৃহহীন ৪০ হাজার মানুষ। রাজ্য জুড়ে একাধিক ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ঘরহারাদের উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে।
বৃষ্টি থেকে এখনই রেহাই পাবে না গুজরাট। আজ, বৃহস্পতিবারেও অতি ভারি বৃষ্টিপাতের লাল সতর্কতা রয়েছে গুজরাটে। আগামিকাল, শুক্রবার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নীচু এলাকা, নদী, জলাধারের জলস্তর নামার সম্ভাবনা নেই। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গোটা রাজ্যের ২৪টি নদীই বিপদসীমার উপরে বইছে। জলস্তর বেড়েছে ২০৬টি জলাধারেই। তবে বিপদসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ১২২টি জলাধারের আশেপাশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, একাধিক জেলায় রেললাইনে জল জমে যাওয়ায় এখনও পর্যন্ত ৪৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ঘুরপথে বহু ট্রেন চলাচল করছে। রাজ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূপেন্দ্র প্যাটেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বন্যা পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সবধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
