আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাসের নানা কাহিনী এখনও মানুষকে চমকে দেয়। এমনই একটি গল্প হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম মীর ওসমান আলি খানের সঙ্গে জড়িত। জানা গিয়েছে, নিজাম একবার তাঁর নাম কেনা রোলস-রয়েস গাড়িগুলো, একটি ইংরেজ শোরুমকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছিলেন। সেটাই ছিল নিজামকে অপমানের বদলা। আপনি যদি পুরো গল্পটি না জেনে থাকেন, তবে আমরা আপনার জন্য তা তুলে ধরছি।
হায়দ্রাবাদের শেষ নিজামের গল্প
ঘটনাটি ১৯২০ সালে লন্ডনে ঘটেছিল। কথিত আছে, হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম যখন একটি বিদেশি দেশে রোলস-রয়েসের শোরুমে গিয়েছিলেন, তখন তিনি সাধারণ পোশাকে ছিলেন। কথিত আছে, সাধারণ পোশাক পরার কারণে শোরুমের কর্মীরা তাঁকে অপমান করেছিল, কারণ তাঁরা ভেবেছিল যে তিনি একজন সাধারণ মানুষ এবং বহুমূল্যের সেই গাড়িগুলো কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। অভিযোগ যে, নিজামকে শোরুম থেকে বের করেও দেওয়া হয়েছিল।
নিজাম কী করলেন?
নিজামের এই অপমান তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত হানে। ফলস্বরূপ, তিনি রাজকীয় পোশাকে শোরুমে ফিরে যান এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন। নগদ টাকায় গাড়িগুলো কিনে নেন নিজাম। নিজাম যখন হায়দ্রাবাদে ফিরে আসেন, তখন তিনি গাড়িগুলোর সামনে ঝাড়ু লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই রাজকীয় গাড়িগুলো পৌর সংস্থার কর্মীদের হাতে তুলে দেন। আবর্জনা সংগ্রহের জন্য গাড়িগুলো ব্যবহার করা হয়।
হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম কে ছিলেন?
মীর ওসমান আলি খান ছিলেন হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম। ১৯৩৭ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। তাঁর প্রচুর সম্পত্তি ছিল, যার মধ্যে ছিল মূল্যবান রত্ন, বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক রাজকীয় গাড়ি।
কথিত আছে, ৩৭ বছরের শাসনকালে হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম শহরের উন্নয়নে ব্যাপক সহায়তা করেছিলেন। তিনি ‘আধুনিক হায়দ্রাবাদের স্থপতি’ হিসেবে পরিচিত।
