ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব নিয়ম মেনে চলার পরও ফল মিলছে না? ক্যালোরি কমানো, খাবারের দিকে কড়া নজর, নিয়মিত শরীরচর্চা, সবই করছেন, তবু আয়নায় সেই কাঙ্ক্ষিত বদল ধরা দিচ্ছে না। তাহলে সমস্যা কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়েট নয়, বরং ওজন কমানোর যাত্রাটা যে পদ্ধতিতে শুরু করা হচ্ছে, সেখানেই মূল গলদ।
ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করলেই অনেকেই আগে কম খাওয়া শুরু করেন, আর এখানেই তাঁদের ব্যর্থতা। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. তানিশা শেখদার, যিনি দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষ ও মহিলাদের ওজন কমানোর লক্ষ্যে কাজ করেন, ওজন কমানোর যাত্রায় একটি সাধারণ ভুলের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বেশিরভাগ ওজন কমানোর পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয় কারণ সেগুলির শুরুটাই হয় ভুলভাবে। যখন শরীরের মেটাবলিজম প্রস্তুত নয়, তখনই ডায়েট শুরু করা হয়।
কেন ওজন কমানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়?
ডা. তানিশার মতে, ওজন কমানোর পথে হাঁটতে গিয়ে মানুষ প্রথমেই কম খেতে শুরু করেন। অনেক মহিলাকে ১২০০ বা ১৪০০ ক্যালোরির ডায়েটে রাখা হয়, কার্বোহাইড্রেট কমাতে বলা হয় এবং আরও বেশি শরীরচর্চার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এই বিষয়গুলির উপর প্রথমেই জোর দিলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থেকেই যায় এবং মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর ফলে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ শরীরের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনে। শরীর আরও বেশি করে চর্বি ধরে রাখে।
ডা. তানিশা বলেন, সঠিক পদ্ধতি হওয়া উচিত রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করা, ইনসুলিন কমানো, স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা এবং পেশি গঠন করা।
ফ্যাট লসের সঠিক ক্রম কী হওয়া উচিত?
তাঁর মতে, যেসব মহিলাদের সঙ্গে তিনি কাজ করেন, তাঁরা অলস নন বা অনুশাসহীন জীবনযাপন করেন না। তাঁরা কেবল ভুল ক্রমে কাজ করছেন। সাধারণত ফ্যাট লস শুরু করা হয় কম খাওয়ার মাধ্যমে, কার্বোহাইড্রেট কাটছাঁট করে, আরও বেশি কঠোর ট্রেনিং করে বা একের পর এক নতুন প্রোটোকলের পিছনে ছুটে।
কিন্তু ডা. তানিশার ব্যাখ্যায়, “যখন ইনসুলিন বেশি থাকে এবং মানসিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন এই ধরনের সীমাবদ্ধতা উল্টো ফল দেয়। শরীর নিজেকে নিরাপদ মনে করে না, তাই সে আরও ধরে রাখে। এই কারণেই যত বেশি চেষ্টা করা হয়, ততই ওজন কমানো কঠিন মনে হয়। আমরা ফ্যাট লস দিয়ে শুরু করি না। আমরা শুরু করি রক্তে শর্করা স্থিতিশীল করা, ইনসুলিন কমানো, পেশি গঠন এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করার মাধ্যমে। এর পরেই ফ্যাট লস সত্যিকারের কাজ করে। এবং তা স্থায়ী হয়।”
