রাত জেগে পড়াশোনা হোক কিংবা একটানা কাজের ক্লান্তি দূর করতে অথবা শরীরে তৎক্ষণাৎ এনার্জি পেতে, আজকাল অনেকেই এনার্জি ড্রিঙ্কে চুমুক দেন। কিন্তু ক্যানবন্দি এনার্জি ড্রিঙ্ক খাওয়া কি আদৌ ভাল? নাকি বাজারচলতি এই সব পানীয় উল্টে শরীরের বিপদ ডেকে আনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এনার্জি ড্রিঙ্ক স্বাস্থ্যের ভয়ঙ্কর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

এনার্জি ড্রিঙ্কে সাধারণত খুব বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে। আর এই ক্যাফেইন শরীর থেকে দ্রুত জল বের করে দেয়। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে যখন পর্যাপ্ত জল থাকে না, তখন কিডনিকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন এমন হলে কিডনির স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

শুধু ক্যাফেইন নয়, এনার্জি ড্রিঙ্কে থাকা অতিরিক্ত চিনিও বড় বিপদের কারণ। এক ক্যান এনার্জি ড্রিঙ্কে অনেক সময় দৈনিক প্রয়োজনের চেয়েও বেশি চিনি থাকে। এই অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ-এই দুই রোগই কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ।

এছাড়াও এনার্জি ড্রিঙ্কে রয়েছে গুয়ারানা, টাউরিন ও অতিরিক্ত ভিটামিন বি। যা শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত এনার্জি ড্রিঙ্ক খেলে শরীর ধীরে ধীরে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে ক্লান্তি দূর হওয়ার বদলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে অনিদ্রা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়, যা কিডনির ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করে। 

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ক্লান্তি দূর করতে এনার্জি ড্রিঙ্ক নয়, পর্যাপ্ত ঘুম, জল, ফল, সাধারণ কফি খেতে পারেন। আর একান্তই এনার্জি ড্রিঙ্ক খেতে ইচ্ছে হলে নিয়মিত না খাওয়াই শ্রেয়। উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে এই ধরনের পানীয় থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। মনে রাখবেন, শরীরে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য স্বাভাবিক উপায়ই সেরা। আলাদা করে বাড়তি বাজারচলতি প্যাকেটজাত দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই।