আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ যেন কোনও সিনেমার পর্দার দৃশ্য। পুলিশের সামান্য অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে হাত ছাড়িয়ে পালালো আসামি। আর সেই আসামিকে ধরতে পিছন পিছন ছুট লাগালো সিভিক ভলেন্টিয়ার থেকে শুরু করে পুলিশ কনস্টেবল সবাই। কিন্তু চোর পুলিশের এই দৌড় প্রতিযোগিতায় হার মানল পুলিশ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা ছেড়ে পগার পার আসামি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক দীর্ঘ ৬ মাস মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দী ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে 'মেডিক্যাল' করানোর জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু গাড়ি থেকে নামিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করানোর সময় পুলিশের হাত ছাড়িয়ে ছুটে পালায় রবিউল। তাঁকে ধরতে তাঁর পিছনে ছুটে যায় সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং কনস্টেবল। কিন্তু শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে ধরতে পারা যায়নি। এখন মাথায় হাত পুলিশ আধিকারিকদের। 

নাসিরউদ্দিন শেখ নামে ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, "আমি যখন এক নম্বর গেটের সামনে একটি দোকানে বসে ভাত খাচ্ছিলাম তখন দেখি হঠাৎই ওই গেট থেকে একটি ছেলে সামনের গেটের দিকে দৌড়াচ্ছে। আর তাঁর পিছনে একটি সিভিক পুলিশ ও কনস্টেবল তাঁকে ধাওয়া করছে। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি যে ছেলেটি সামনের গেট দিয়ে পালিয়ে গেল।"

 

রবিউলকে যে গাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল সেই গাড়িতে আসা মিন্টু খান নামে অন্য এক আসামি জানান, "রবিউল শেখ বাংলাদেশি। গত ছয় মাস ধরে সে জেলে বন্দি রয়েছে। আজ 'মেডিক্যাল' করানোর জন্য তাঁকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের হাত ছাড়িয়ে সে পালিয়ে গিয়েছে।"

রবিউলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করার জন্য ইতিমধ্যেই এলাকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।