ছোট্ট ছেলের চোখে নায়ক কেমন হয়? সেই প্রশ্নের উত্তরই যেন দিয়ে দিলেন মধুবনী গোস্বামী। ছোট্ট কেশব আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘কাকাবাবু’কে ঘিরে একেবারে আদুরে মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন ছোটপর্দার এই অভিনেত্রী।

কয়েকদিন আগে স্বামী রাজা গোস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ছেলে কেশবকে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যান মধুবনী। ছবিটি হল, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা গল্প অবলম্বনে প্রসেনজিৎ অভিনীত ‘কাকাবাবু: বিজয়নগরের হীরে’। আর সেই ছবি দেখার পর থেকেই নাকি কেশব কার্যত কাকাবাবুর ভক্তে পরিণত।

মধুবনীর লেখায় উঠে এসেছে একেবারে ঘরের গল্প। সিনেমা শেষ হতেই কেশব কাকাবাবু সেজে চশমা পরে, ছাতাকে ক্রাচ বানিয়ে পা টেনে টেনে গোটা বাড়ি জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। কাকাবাবুর বিশ্বস্ত সহকারী ‘সন্তু’র ভূমিকায় নেমেছেন খোদ মধুবনী নিজেই! কেশবের নির্দেশ স্পষ্ট, আগে সন্তু সব দুষ্কৃতীকে ধরাশায়ী করবে, তারপর কাকাবাবু এসে রহস্যভেদ করবেন।

আর পোস্টের  সবচেয়ে মজার অংশ? এখন কেশব অথবা বলা ভাল, ‘কাকাবাবু’ সব জায়গাতেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে। বাড়ির আলো কেন কম? নিশ্চয়ই এর পিছনে কোনও রহস্য লুকিয়ে! এমনই চলছে কেশবের কাকাবাবু-জগৎ। মধুবনী মজার ছলে লেখেন, বাংলা পড়া শুরু হলে কেশবের প্রথম বই সম্ভবত হবে ‘কাকাবাবু সমগ্র’।

 

এই পোস্ট চোখ এড়ায়নি খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়েরও। ছোট্ট কেশবের এই ভালবাসায় আপ্লুত হয়েছেন তিনিও। এক প্রজন্মের কাকাবাবু যে আরেক প্রজন্মের কল্পনাতেও ঠিক ততটাই জীবন্ত, এই গল্পই যেন আবার মনে করিয়ে দিল সেই সত্য। তাই তো তিনি ফেসবুকে মধুবনীর সেই পোস্ট শেয়ার করে পাল্টা লিখলেন, “ধন্যবাদ কেশব। কাকাবাবু শুধু একটা চরিত্র নয়, সে যদি কাউকে এমন করে কৌতূহলী করে তোলে, প্রশ্ন করতে শেখায়, বইয়ের দিকে টেনে আনে তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক। কেশবের এই ভালোবাসা আর অনুসন্ধানী মনটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেক ভালোবাসা রইল তোমাদের সবার জন্য।” 

প্রসেনজিতের সেই পোস্ট দেখে আপ্লুত কেশবের বাবা রাজা। তাই তো ‘কাকাবাবু’র সেই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করে রাজা লিখলেন, “আমি এখনও ঘোরের মধ্যে আছি দ্য প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আমাদের সকলের প্রিয় শ্রদ্ধেয় বুম্বাদার মন্তব্য দেখে। আমি জীবনে কোনদিনও লটারির টিকিট কাটিনি কিন্তু আজ সেরা পুরস্কারটা পেয়ে গেলাম, অসংখ্য ধন্যবাদ আর প্রণাম দাদা। কাল সারারাত আনন্দে ঘুম হয়নি। ওয়ান্স এগেইন থ্যাঙ্ক ইউ দাদা…”
(পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।)