দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পরিচালকের আসনে ফিরছেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। নতুন ছবির কাজ শুরু করেছেন তিনি। ছবির নাম ‘চোর’। এক রাতের একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে ছবির টানটান গল্প। বাস্তবতার ছোঁয়া রাখতে শুটিং হবে কলকাতার বিভিন্ন পরিচিত পথঘাট ও লোকেশনে। সেই ছবির কেন্দ্রেই রয়েছেন জিতু কামাল। ছবিতে জিতুর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, রাজেশ শর্মা ও শঙ্কর চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় অভিনেতাদের। রয়েছেন অঞ্জনা বসু, মানসী সিনহা, দেবলীনা কুমার-ও। অগ্নিদেবের এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন তাঁর স্ত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। তবে পর্দার সামনে নয়। নেপথ্যে। সংলাপের ঘষামাজা এবং চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব তাঁর। তিনি বলেন, “অনেক দিন পর এমন একটা ছবি তৈরি হচ্ছে যেখানে মহিলারা না, পুরুষরা প্রাধান্য পাবে। মেয়েরা থাকবেন অতিথি শিল্পী হিসাবে।”

সম্প্রতি, ছবির পোস্টার মুক্তি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ছবির কলাকুশলীরা। ছিলেন সস্ত্রীক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ও। সেখানেই রাজেশ শর্মার সঙ্গে উৎপল দত্তের তুলনা করলেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। কেন উৎপল দত্তের মতো একজন কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে একই পংক্তিতে রাজেশকে তিনি বসাচ্ছেন, সে যুক্তিও অকপটভাবে দিয়েছেন সুদীপা।
সুদীপার কথায়, “রাজেশদাকে বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রি খুব বেশি পায় না। সেখানে খামতি কিন্তু বাংলা ছবি ইন্ডাস্ট্রির-ই, রাজেশদার নয়। ওঁর মধ্যে এখানে কাজ করার ভরপুর ইচ্ছে। এতটুকুও সদিচ্ছার অভাব নেই, ডাকলেই চলে আসেন।” সামান্য থেমে সুদীপ ফের বলা শুরু করলেন, " এই ফাঁকে নিজের একটি ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করি ওঁর বিষয়ে। উৎপল দত্তের পর..." বাক্য শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে থামাতে যান রাজেশ। স্পষ্টতই অস্বস্তি ফুটে ওঠে ওঁর মুখে চোখে –“বলো না এসব, বললে কিন্তু আমি চলে যাব…”
এসব বলার ফাঁকেই তাঁকে সস্নেহে থামিয়ে সুদীপা ফের বলে ওঠেন, “আমার কথা বাকিরাই বিচার করুক। কথাটা হচ্ছে, উৎপল দত্তের পর কলকাতার একজন আদ্যপান্ত বাঙালি মানুষ দু'টি ইন্ডাষ্ট্রিতেই চুটিয়ে কাজ করছেন। আবার তাঁর মতো একজন মানুষকে কেন্দ্র করে একটি ছবি ভাবতে পারি না আমরা। আমাদের সৌভাগ্য যে এই ছবিতে ওঁকে আমরা পেয়েছি। এর পাশাপাশি রয়েছেন শঙ্কর চক্রবর্তী, জিতু কামালের মতো বাঘা বাঘা অভিনেতারা। রয়েছেন বরুণ চন্দ, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মতো দুরন্ত অভিনেতারাও। আরও একটা কথা, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রাজেশদার কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছর হয়ে গেল। ”
সুদীপার কথা শেষ হতেই পরিচালক অগ্নিদেব বলে উঠলেন, “আমি তো সৌভাগ্যই বলব নিজের যে, শঙ্কর চক্রবর্তীর মতো একজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে পারছি। আমার তো মনে হয়, উনি এইমুহূর্তে ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা!” পাশ থেকে রাজেশ বলে ওঠেন, “আমার কিন্তু মনে হয় না। আমি এটা বিশ্বাস করি!”
শঙ্কর চক্রবর্তীর মুখে তখন হাসি। চার দশকের অভিনয়জীবন পেরিয়ে আসা শঙ্কর চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়াও ছিল বিনয়ী ও আবেগে ভরা- “১৯৮৬ সালে এক্সট্রা হিসেবে শুরু করেছিলাম। আজ ৪০ বছর পেরিয়ে এলাম। রাজেশ এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা। ওর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারছি, এই কৃতজ্ঞতা অগ্নিদেব আর সুদীপাকে।”
আবেগ লুকোননি জিতুও, “ওঁদের দু'জনের কাজ দেখে বড় হয়েছি। দারুণ লাগে ওঁদের কাজ। অভিনয়। তাই বলাই বাহুল্য ওঁদের দু’জনের সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে ভীষণই খুশি আমি।”
সব মিলিয়ে, অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘চোর’ শুধু একটি থ্রিলার বা চুরির গল্প নয় । এটা অভিনয়, অভিজ্ঞতা এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতার ছবি।
