আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের এক জেলায় দাম্পত্য কলহ থেকে জন্ম নেওয়া এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল সমাজ। ৩৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তি, ঘাসি রাম, অভিযোগ করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর কাছ থেকে যৌন সম্পর্ক না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি নিজের যৌনাঙ্গ নিজেই কেটে ফেলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘাসি রামের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর আগে। তাঁর দাবি, বিয়ের প্রায় আট বছর পর থেকেই স্ত্রী মঞ্জরি দেবী তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করে আসছিলেন। এই দীর্ঘ যৌন বঞ্চনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল বলে দাবি ঘাসি রামের।

ঘটনাটি ঘটে চলতি সপ্তাহের শুরুতে। ওইদিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন ঘাসি রাম। এরপর স্ত্রীর কাছে শারীরিক সম্পর্কের দাবি করলে মঞ্জরি দেবী তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর জেরেই দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় ঘাসি রাম রান্নাঘরে ঢুকে একটি ধারালো রান্নার ছুরি দিয়ে নিজের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁদের সাহায্যেই মঞ্জরি দেবী আহত স্বামীকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কাটা যৌনাঙ্গ ফের জোড়া লাগাবার চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে ঘাসি রামের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকেরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং সন্তান ধারণের ক্ষমতাও ফিরতে পারে, যদিও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

অন্যদিকে, স্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। মঞ্জরি দেবী জানিয়েছেন, ওইদিন স্বামী অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেই তিনি শারীরিক সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, স্বামীর আত্মনাশের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি দায়ী নন এবং ঘাসি রাম নিজের ভুল ঢাকতেই তাঁর উপর দোষ চাপাচ্ছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। দাম্পত্য কলহ ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হয়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতে দাম্পত্য সম্পর্ক, যৌন অসন্তোষ ও মানসিক চাপ থেকে জন্ম নেওয়া এমন চরম আত্মহানির ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য, দাম্পত্য পরামর্শ এবং মদ্যপানের সমস্যাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।